মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আমদানীকৃত বেশির ভাগ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে বাণিজ্য যুদ্ধ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। খবর রয়টার্স।
উল্লেখ্য, বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্র হলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ২ দশমিক ৬৬ ডলার বা ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৭২ ডলার ২৯ সেন্টে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ২ ডলার ৬৯ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ব্যারেলপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৬৯ ডলার ২ সেন্টে।
আইজির মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট ইয়েপ জুন রং ই-মেইলের মাধ্যমে জানান, ‘মার্কিন শুল্কের ঘোষণা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব ফেলেছে। এ বাজারের বিনিয়োগকারীদের বর্তমানে প্রধান মনোযোগ রাখতে হবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের দিকে। শুল্কের কারণে তা নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।’
যদিও হোয়াইট হাউজ গত বুধবার নিশ্চিত করেছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও পরিশোধিত পণ্য আমদানি এ নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষকরা গত বুধবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে দেয়া পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। এ সময় আগের পূর্বাভাসের তুলনায় পণ্যটির দাম ৩ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের এ পূর্বাভাস সংশোধন বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত।
ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের দামে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। কারণ বিভিন্ন দেশ শুল্ক হার কমানোর জন্য আলোচনা অথবা অনেক ক্ষেত্রে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক পিভিএমের বিশ্লেষক টামাস ভার্গা জানান, অনেক দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারে। বাজারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে মন্দা ও স্থবির মূল্যস্ফীতি বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শুল্কের খরচ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপরই বর্তাবে। ফলে ব্যাহত হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।’
এদিকে ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানায়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বেড়েছে ৬২ লাখ ব্যারেল। এর আগে বিশ্লেষকরা ২১ লাখ ব্যারেল মজুদ কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।